ওয়েব হোস্টিং বা ওয়েবসাইট হোস্টিং কি ?

0
281
ওয়েব হোস্টিং

ওয়েব হোস্টিং নিয়ে অনেকেরই অনেক জিজ্ঞাসা আছে। আপনারা অনেকেই হয়তো কথাটি শুনেছেন কিন্তু ব্যাপারটি কি বস্তু সে ব্যাপারে ধারণা পরিস্কার নয়। তাই এই পোস্টে আমরা ওয়েব হোস্টিং নিয়ে আলোচনা করব।

ওয়েব হোস্টিং বা ওয়েবসাইট হোস্টিং কি?

ওয়েব হোস্টিং ব্যাপারটি হল একটি প্রক্রিয়া। যেখানে একটি অনলাইন সার্ভার বা মেশিন (কম্পিউটার বলতে পারেন) আপনাকে একটি বৈদ্যুতিন জায়গা (web hosting space) তৈরি করে দেবে আপনার ওয়েবসাইটের সমস্ত তথ্য রেখে দেয়ার জন্য। সেখানে আপনি আপনার ছবি, কোন লেখা, ভিডিও এসব রাখতে পারেন। আপনার সেই জায়গাটি আপনার ডোমেইনের সাথে যুক্ত থাকবে। যখনই কেউ আপনার ডোমেইন এ ঢুকবে সে আপনার সেইসব তথ্য দেখতে পাবে।

বোঝা গেল? আরও সহজ করে দিই। আমরা আগেই বলেছি যে ডোমেইন হল একটি ঠিকানা বা ডিজিটাল ঠিকানা। যদি তাই হয়, তবে ওয়েব হোস্টিং হল আপনার ঘর বা বাড়ি। তাহলে, আপনার কাছে ঠিকানা বা ডোমেইন আছে এবং যদি আপনার কাছে ওয়েব হোস্টিং বা ঘর-বাড়ি না থাকে, তাহলে শুধু ঠিকানা দিয়ে কি করবেন? ওয়েব হোস্টিং ছাড়া যেমন শুধু ডোমেইনের কোন মূল্য নেই, তেমনি ডোমেইন ছাড়া শুধু ওয়েব হোস্টিংও কোন কাজে আসে না। আসুন একটি সরল সমীকরণ তৈরি করে ব্যাপারটিকে ভালো ভাবে বোঝাই।

একটি সম্পূর্ণ ওয়েবসাইট = ডোমেইন + ওয়েব হোস্টিং + ওয়েবসাইট ডিজাইন

এর মধ্যে কোন একটি কম হলে আপনার ওয়েবসাইট হবে না।

ওয়েব হোস্টিং কত প্রকার? 

ওয়েব হোস্টিং মোটামুটি ভাবে চার প্রকারের হয়। নীচে এগুলি সম্পর্কে আলোচনা করা হলঃ

১. শেয়ারড হোস্টিং (Shared Hosting):

শেয়ারড হোস্টিং সবচেয়ে বেশী ব্যবহৃত হয়। আপনি সমস্ত কোম্পানির হোস্টিং দেখবেন, প্রথমেই যে প্যাকেজ দেয়া থাকে সেগুলিই হল শেয়ারড হোস্টিং। এই হোস্টিং এ একটি মূল সার্ভারকে ভাগ করে করে সকলকে বিক্রি করা হয়। সার্ভারের ডিস্ক স্পেস, র‍্যাম, প্রসেসর, ব্যান্ডউইদ সমস্ত কিছুই একে ওপরের সাথে ভাগ করা হয় বলে এই রকম হোস্টিংকে শেয়ারড হোস্টিং বলে।

শেয়ারড হোস্টিং কি ভালো না খারাপ? 

ভালো দিকঃ 
  1. দামে সস্তা, তাই শুরুর জন্য আপনি এই হোস্টিং দিয়ে ওয়েবসাইট শুরু করতে পারেন।
  2. আপনার যদি ছোট ওয়েবসাইট হয় তবে শেয়ারড হোস্টিং আপনার জন্য একেবারে সঠিক নির্বাচন।
  3. শেয়ারড হোস্টিং ব্যবহার করা খুবই সোজা। ফলে আপনাকে সময় খরচ করে কিছু শেখার দরকার পড়ে না।
  4. সকল শেয়ারড হোস্টিং এর সাথেই আপনি বিনামূল্যে কন্ট্রোল প্যানেল পাবেন।
মন্দ দিকঃ
  1. যেহেতু একটি সার্ভার সকলের সাথে শেয়ার করা হয় তাই আপনি ভালো স্পীড পাবেন না।
  2. শেয়ারড হোস্টিং এর ক্ষমতা কম হওয়ায় আপনার ওয়েবসাইটে বেশী ভিজিটর হলে সমস্যা হতে পারে।
  3. যেহেতু একটি সার্ভার সকলে ব্যবহার করে, তাই ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।
কখন কিনবেন শেয়ারড হোস্টিং? 
  1. ওয়েবসাইট শুরু করার জন্য আপনি শেয়ারড হোস্টিং দিয়ে শুরু করুন। তারপর প্রয়োজন বুঝে ভিপিএস বা ডেডিকেটেড সার্ভারে যাবেন।
  2. আপনার ছোট ওয়েবসাইট যার মাসে ১ লক্ষের কম ভিজিটর হলে শেয়ারড হোস্টিং নিতে পারেন।

২. ভিপিএস হোস্টিং (VPS Hosting):

VPS এর পুরো কথা হল Virtual Private Server (ভার্চুয়াল প্রাইভেট সার্ভার)। এখানে একটি প্রধান সার্ভারকে ছোট ছোট সার্ভারে ভাগ করা হয়। যেহেতু এটি মূলত সার্ভার নয় কিন্তু সার্ভারের মতো কাজ করে তাই একে ভার্চুয়াল সার্ভার বলে। এই ভার্চুয়াল সার্ভারও একপ্রকারের শেয়ারড হোস্টিং, কিন্তু এটি সাধারণ শেয়ারড হোস্টিং থেকে অনেক বেশী শক্তিশালী।

ভিপিএস হোস্টিং ভালো না খারাপ? 

ভালো দিকঃ
  1. এটি সাধারণ শেয়ারড হোস্টিং থেকে অনেক বেশী শক্তিশালী।
  2. আপনার ওয়েবসাইটে যদি ১০-২০ লক্ষ ভিজিটর হয় তবুও আপনাকে কোন অসুবিধায় পড়তে হবে না।
  3. যেহেতু সার্ভার আপনার একার এবং আপনিই ব্যবহার করবেন, তাই সুরক্ষার দিক দিয়েও সেরা।
মন্দ দিকঃ
  1. সাধারণ শেয়ারড হোস্টিং থেকে দাম অনেকটাই বেশী।
  2. সার্ভার পরিচালন করার জন্য নূন্যতম জ্ঞান থাকা দরকার।
  3. আপনাকে অতিরিক্ত অনেক কিছু কিনতে হবে, যেমন কন্ট্রোল প্যানেল, সিকিউরিটি সফটওয়্যার ইত্যাদি। ফলে আপনার খরচ বাড়বে।
কখন কিনবেন ভিপিএস হোস্টিং? 
  1. যখন দেখবেন আপনার ওয়েবসাইট ঠিক মতো চলছে না। মাঝে মাঝে সাইট ডাউন হয়ে যাচ্ছে। তখন শেয়ারড হোস্টিং থেকে ভিপিএস এ যান।
  2. মাসে ১ লক্ষের বেশী ভিজিটর হলে আপনি একটি ছোট ভিপিএস নিয়ে নিন।
  3. যদি আপনি ভিডিও হোস্টিং সাইট বানাতে চান তবে প্রথমেই ভিপিএস ব্যবহার করুন। কারণ কোন শেয়ারড হোস্টিং আপনাকে ভিডিও হোস্ট করার অনুমতি দেবে না।
  4. যদি আপনি কোন অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করতে তবে প্রথমেই ভিপিএস ব্যবহার করুন।
  5. আপনি যদি ই-কমার্স বা অনলাইন শপিং ওয়েবসাইট বানাতে চান, তবে প্রথম থেকেই ভিপিএস ব্যবহার করুন।

৩. ডেডিকেটেড সার্ভার (Dedicated Server): 

ডেডিকেটেড সার্ভার হল আপনার জন্য নিবেদিত একটি সম্পূর্ণ সার্ভার। যেখানে আপনিই সেই সার্ভারের মালিক। এটি সবচেয়ে শক্তিশালী এবং আপনি আপনার সার্ভারের সম্পূর্ণ ব্যবহার করতে পারবেন। ডেডিকেটেড সার্ভার ৪ জিবি র‍্যাম থেকে ৫১২ জিবি র‍্যাম বা তারও বেশী হতে পারে। খুবই বড় ধরণের ওয়েবসাইট যার প্রতি মাসে কয়েক কোটি ভিজিটর হয় অথবা আপনি যদি ভিডিও হোস্টিং করতে চান তবে ডেডিকেটেড সার্ভার আপনার জন্য সঠিক।

ডেডিকেটেড সার্ভার ভালো না খারাপ?

ভালো দিকঃ
  1. এখানে আপনিই সার্ভারের মালিক, তাই আপনি এর সম্পূর্ণ ব্যবহার করতে পারবেন। অন্য কারো সাথে শেয়ার করতে হবে না।
  2. ছোট বড় মাঝারি যে কোন ধরণের ওয়েবসাইট বা অ্যাপ্লিকেশন আপনি এখানে অনায়াসে হোস্ট করতে পারবেন।
মন্দ দিকঃ
  1. সার্ভার ব্যবহার করার জন্য আপনার নূন্যতম জ্ঞান থাকা দরকার অথবা এমন কাউকে কাজে নিতে হবে যে ব্যাপারটি জানে।
  2. অতিরিক্ত অনেক কিছু যেমন কন্ট্রোল প্যানেল, সিকিউরিটি সফটওয়্যার কিনতে হবে।
  3. মূল্য অনেক বেশী।

৪. ক্লাউড হোস্টিং (Cloud Hosting): 

ক্লাউড হোস্টিং হল অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। কারণ ক্লাউড হোস্টিং এর সার্ভার খুবই শক্তিশালী হয়। এখানে ব্যবহার করা হয় উন্নত প্রযুক্তি, প্রিমিয়াম সব সফটওয়্যার যা আপনার ওয়েবসাইটকে আরও দ্রুত করে তোলে।

কেন ক্লাউড প্রযুক্তি সবচেয়ে ভালো?
  1. এখানে ব্যবহৃত হয় উন্নত প্রযুক্তি।
  2. সাধারণ হোস্টিং সাধারণ ডিস্ক ব্যবহার করে তথ্য জমা করার জন্য, কিন্তু ক্লাউড হোস্টিং এ ব্যবহার করা হয় এসএসডি (SSD Disk) যা সাধারণ ডিস্কের থেকে ১০ গুণ বেশী দ্রুত।
  3. এখানে ব্যবহৃত হয় রেইড প্রযুক্তি (Raid Technology) যেখানে আপনার তথ্য একাধিক ডিস্কে সংরক্ষিত হয়, ফলে কোন ভাবে যদি একটি ডিস্ক কাজ করা বন্ধ করে, তবে অপর ডিস্ক থেকে তথ্য প্রদান করা হয়। এতে আপনার ওয়েবসাইট সর্বদা সচল থাকে।

ক্লাউড হোস্টিং আবার তিন প্রকার হয়। ওপরে যেভাবে বর্ণনা করা হয়েছে সেভাবেই ক্লাউড হোস্টিং এর প্রকারভেদ আছেঃ

  1. শেয়ারড ক্লাউড হোস্টিং (Shared Cloud Hosting): যা সাধারণ শেয়ারড হোস্টিং থেকে ৩/৪ গুণ বেশী শক্তিশালী।
  2. ক্লাউড ভিপিএস (Cloud VPS): যা সাধারণ ভিপিএস এর থেকে কয়েগুণ বেশী শক্তিশালী।
  3. ডেডিকেটেড ক্লাউড (Dedicated Cloud): যা সাধারণ সার্ভারের থেকে বেশী দ্রুত এবং শক্তিশালী।

কীভাবে ওয়েব হোস্টিং নির্বাচন করবেন?

আগেই বলেছি ওয়েব হোস্টিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইট তৈরি করার ক্ষেত্রে। তাই ভালো কোম্পানির থেকে ওয়েব হোস্টিং নির্বাচন করাটা অত্যন্ত জরুরি। ওয়েব হোস্টিং নির্বাচন করার সময় যে বিষয়গুলির প্রতি লক্ষ্য করবেনঃ

  • সাপোর্ট (Support): আপনার ওয়েব হোস্টিং প্রদান-কারী সংস্থা আপনাকে যখনই দরকার তখনি যেন সাহায্য করতে প্রস্তুত থাকে। ওয়েব হোস্টিং একটি দিন রাত্রি ৩৬৫ দিন x ২৪ ঘণ্টার সার্ভিস। তাই আপনি যদি ঠিকমতো সাপোর্ট না পান তবে আপনার ওয়েবসাইট এবং সাথে সাথে ব্যবসার ক্ষতি হবে। আর সাপোর্টের ভাষা যদি বাংলায় হয় তাহলে তো খুবই ভালো। মাতৃভাষায় কথা বলে আপনার সমস্যা কে আরও ভালো ভাবে বোঝাতে পারবেন এবং বুঝতেও পারবেন। তাই বাংলা ভাষার ওয়েবসাইট হোস্টিং সবার আগে পছন্দ করবেন।
  • অন্তত ৯৯.৯% আপ-টাইম (Up-time): আপ-টাইম হল এক মাসে আপনার ওয়েবসাইট কতক্ষণ অনলাইনে রয়েছে। এটা যতটা বেশী হবে আপনার ওয়েবসাইটের পক্ষে ততটাই ভালো। কোন ভিজিটর যদি আপনার ওয়েবসাইটে এসে দেখে যে আপনার ওয়েবসাইট খুলছে না। তবে সে আর দ্বিতীয়বার আসতে চাইবে না। তাই বেশী আপ-টাইম মানে বেশীক্ষণ আপনার ওয়েবসাইট অনলাইনে থাকবে।
  • মূল্য যেন সাধ্যের মধ্যে থাকে (Affordable Price):  অবশ্যই যেন হোস্টিং এর মূল্য আপনার সাধ্যের মধ্যে থাকে। তবে একেবারে কম দামী হোস্টিং নেওয়া থেকে বিরত থাকবেন। কথায় আছে না, যেমন গুড় দেবেন তেমন মিষ্টি হবে। সেরকমই আপনি যদি ভালো হোস্টিংএর দাম একটু বেশী হবে কিন্তু আপনাদের সাধ্যের মধ্যেই থাকবে।
  • নবীকরণ দাম (Renewal Price) যেন অস্বাভাবিক বেড়ে না যায়: অনেক কোম্পানি আছে যেখানে দেখবেন, ৯৯ টাকায় হোস্টিং বিক্রি করছে। আপনি কম দাম পেয়ে কিনে নিলেন। এবার পরের বছর যখন নবীকরণ করতে গেলেন তখন দেখবেন যে মূল্য হয়ে গেছে ৩-৪ গুণের বেশী। এইসব হল ব্যবসায়িক প্যাঁচ। এই প্যাঁচে পড়েছেন তো এরা আপনার পকেট ফাঁকা করে দেবে। তাই সর্বদা নবীকরণ মূল্য জিজ্ঞেস করে নেবেন।
  • বিনামূল্যে এসএসএল সার্টিফিকেট (SSL Certificate): এসএসএল সার্টিফিকেট খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে। এই সার্টিফিকেট আপনার ওয়েবসাইটের সমস্ত তথ্য encrypt করে রাখে যা অন্য কারো পক্ষে উদ্ধার করা সম্ভব না। যে ওয়েবসাইটের এই সার্টিফিকেট নেই, গুগল তাঁদেরকে প্রথমে দেখায় না। তাই জিজ্ঞেস করে নিন যে, আপনার হোস্টিং কোম্পানি কি এসএসএল বিনামূল্যে দিচ্ছে নাকি তার জন্য আলাদা মূল্য নিচ্ছে? যদি আলাদা মূল্য নেয় তবে সেখান থেকে হোস্টিং না নেওয়াই ভালো। যেমন গো-ড্যাডি এর জন্য বছরে প্রায় ৩৬০০ ভারতীয় টাকা নিয়ে থাকে।
  • সার্ভার অবশ্যই এসএসডি (SSD Disk) হতে হবে:  জিজ্ঞেস করুন আপনার হোস্টিং কোম্পানির সার্ভার কি এসএসডি(SSD) বা সলিড স্টেট ড্রাইভ দিয়ে চলছে কিনা! কারণ সাধারণ হার্ড-ডিস্ক থেকে এই ডিস্ক অনেক বেশী দ্রুত কার্যকর। এটা আপনার ওয়েবসাইটকে আরও দ্রুত খুলতে সাহায্য করবে। ফলে আপনার ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীরা এতে খুশি হবে।  
  • তাঁদের যেন তথ্য সংরক্ষণ পদ্ধতি (Data Backup System) থাকেঃ ডাটা-ব্যাকআপ বা তথ্য সংরক্ষণ পদ্ধতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হোস্টিং নির্বাচন করার ক্ষেত্রে। কারণ, কোন কারণে আপনার ওয়েবসাইটে কিছু সমস্যা হলে আপনি যাতে পুরনো অবস্থায় ফিরে যেতে পারেন। অনেক প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি এই ডাটা-ব্যাকআপ বা তথ্য সংরক্ষণের জন্য আলাদা মূল্য নিয়ে থাকে। কিন্তু অনেক কোম্পানি আছে যারা এটা বিনামূল্যে দিয়ে থাকে। অবশ্যই যেখানে বিনামূল্যে পাবেন সেখান থেকে হোস্টিং নেবেন।
  • অবশ্যই যেন অনলাইন পেমেন্ট (Online Payment System)ব্যবস্থা থাকেঃ যে কোম্পানির অনলাইন পেমেন্টের ব্যবস্থা নেই, তাঁদের থেকে একদম হোস্টিং কিনবেন না। কারণ যারা অনলাইন পেমেন্টের ব্যবস্থা করতে পারেনি, তাঁরা আপনাকে ভালো সার্ভিস দিতে পারবে না।
  • একটি ক্লিকের মাধ্যমেই স্ক্রিপ্ট ইন্সটল (One-click Script Install) করার সুবিধাঃ ওয়েবসাইট বানাতে গেলে অনেক রকম স্ক্রিপ্ট দরকার হয়। যেমন ওয়ার্ডপ্রেস, জুমলা, ওপেনকার্ট ইত্যাদি। আপনার হোস্টিং কোম্পানি যেন এক ক্লিকেই এই সব ইন্সটল করার সুবিধা দিয়ে থাকে। না হলে আপনাকে সমস্ত কিছু নিজে সেটআপ করতে হবে যা খুবই জটিল অ সময় সাপেক্ষ।
  • তাঁরা যেন অবশ্যই সি-প্যানেল (cPanel) প্রদান করেঃ সি-প্যানেল হল সারা বিশ্বে বহুল ব্যবহৃত কন্ট্রোল প্যানেল। এখান থেকেই আপনাকে আপনার ওয়েবসাইটের যাবতীয় টেকনিক্যাল বা প্রযুক্তিগত কাজ সম্পন্ন করতে হবে। অনেক কোম্পানি আছে যারা নিজেদের কন্ট্রোল প্যানেল প্রদান করে যেমন Hostinger. এদের থেকে হোস্টিং নিলে পরে আপনার অসুবিধা হবে। কারণ যদি আপনি অন্য কোন কোম্পানিতে যেতে চান তবে তথ্য সংরক্ষণ করে নিয়ে যাওয়া খুবই সমস্যার। যদি সি-প্যানেল হয় তবে অনায়াসে আপনি সমস্ত তথ্য আরেক সি-প্যানেলে নিয়ে যেতে পারবেন। তাই যেখানে সি-প্যানেল নেই সেখান থেকে হোস্টিং নয়।
  • কোন রকম গোপন মূল্য (Hidden Price) যেন না থাকেঃ অনেক হোস্টিং কোম্পানি আছে প্রথমে বলবে একটি নির্দিষ্ট টাকা দিলেই আপনি হোস্টিং কিনতে পারবেন। কিন্তু যখন আপনি কিনে নেবেন, তারপর দেখবেন অনেক অপশন নেই, তার জন্য আলাদা মূল্য দিতে হবে যেমন, এসএসএল, ব্যাকআপ ইত্যাদি। তাই জিজ্ঞেস করে নিন যে তাঁদের নির্ধারিত মূল্যের ওপরে আরও কোন দাম আপনাকে দিতে হবে কিনা।

কোথা থেকে হোস্টিং কিনবেন?

আগেই বলেছি ওয়েব হোস্টিং নির্বাচন করাই হল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ এর ওপরেই আপনার ওয়েবসাইটের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করছে। আপনার কোম্পানি যদি ভালো হয় তবে আপনার ওয়েবসাইটও ভালো চলবে। নীচে এমনই কিছু কোম্পানির নাম ও তাঁদের বিবরণ দেয়া হল যেখান থেকে আপনারা হোস্টিং কিনতে পারবেন। 

3CLOUDS:

প্রথমেই বলি এই কোম্পানি কলকাতার এবং আপনি বাংলায় সাপোর্ট পাবেন। এদের হোস্টিং সম্পূর্ণ ক্লাউড হোস্টিং ফলে আপনি অসাধারণ দ্রুত পরিষেবা পাবেন। দেখে নেওয়া যাক কি কি পাচ্ছেনঃ

সাপোর্টঃ সম্পূর্ণ বাংলায় সাপোর্ট পাবেন কারণ এটি কলকাতার কোম্পানি। দিবা-রাত্রি ২৪ ঘণ্টা অসাধারণ সাপোর্ট পাবেন।

ডিস্কঃ এসএসডি ডিস্ক এবং অপরিসীম জায়গা পাবেন। অন্যান্য কোম্পানির মতো সীমাবদ্ধতা নেই।

ফ্রি-ডোমেইনঃ এদের এন্টারপ্রাইজ প্যাকেজ কিনলে পাবেন সারাজীবনের জন্য ডোমেইন বিনামূল্যে। অর্থাৎ আপনাকে শুধু হোস্টিং এর মূল্য দিতে হবে। এবং আপনার ডোমেইন বিনামূল্যে নবীকরণ হয়ে যাবে।

ফ্রি-এসএসএলঃ আগেই বলেছি এসএসএল খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং এটা যেমন আপনার ওয়েবসাইটকে রক্ষা করবে তেমনি গুগলও সেই সব ওয়েবসাইটকে পছন্দ করে যাদের এসএসএল আছে। আপনি এখানে বিনামূল্যে এসএসএল পাবেন।

তথ্য সংরক্ষণঃ এখানে আপনি বিনামূল্যে তথ্য সংরক্ষণ বা ডাটা ব্যাকআপ এর সুবিধা পাবেন। আপনি নিজেই ইচ্ছেমতো ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। ফলে আপনার ওয়েবসাইটের তথ্য আরও সুরক্ষিত থাকবে।

ইমেইলঃ এখানে আপনি যত খুশি ইমেল তৈরি করতে পারবেন।

মূল্যঃ মূল্য একেবারে সাধ্যের মধ্যে। ভারতীয়রা ১১০ টাকা প্রতি মাসে থেকে কিনতে পারবেন এবং আপনি যদি বাংলাদেশ থেকে হন তবে ১.৪ ডলার প্রতিমাসে দিয়ে কিনতে পারবেন।

আরও পড়ুন